pin

চালু হচ্ছে সরাসরি ঢাকা চেন্নাই ঢাকা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট

ভারতের চেন্নাইয়ে প্রথম বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আগামী ৩১ মার্চ প্রথম ফ্লাইট চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। চট্টগ্রাম থেকেও থাকছে ফ্লাইট।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-চেন্নাই-ঢাকা রুটে ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইটটি পরিচালিত হবে। যার মধ্যে ৮টি বিজনেস ক্লাস ও ১৫৬টি ইকোনমি ক্লাসের আসন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চেন্নাইয়ের যাত্রী নিয়ে যাবে এয়ারলাইন্সটি।

ঢাকা-চেন্নাই রুটে ওয়ানওয়ের ভাড়া শুরু ১৫ হাজার টাকা থেকে। আর রিটার্ন ২৪ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে এই ভাড়া ১৬ হাজার ও ২৬ হাজার টাকা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ ও মার্কেটিং) কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, যাত্রা শুরুর পর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সঠিক সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ, রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের ইন-ফ্লাইট সুবিধা। আমাদের কাছে সব যাত্রীই ভিআইপি।

pin

বিমানের ভ্যালেন্টাইন অফার শুধুমাত্র অনলাইনে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে ভ্রমণ পিপাসু যাত্রীদের জন্য এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকদের উৎসাহিত করতে বিমানের আন্তর্জাতিক কয়েকটি রুটে ১লা ফেব্রুয়ারী ২০১৯ হতে বিশেষ হ্রাসকৃত ভাড়ার অফার দিয়েছে। এই অফারে আগ্রহী যাত্রীগণ ১৫% ছাড়ে শুধুমাত্র বিমান অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.biman-airlines.com) এর মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করতে পারবেন।

এই অফার আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ পর্যন্ত চলবে। বিমানের এই রুটগুলো হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর, ঢাকা-কাঠমুন্ডু, ঢাকা-সিংগাপুর, ঢাকা-ব্যাংকক, ঢাকা-কোলকাতা ও ঢাকা-ইয়াংগুন। এ অফারে ভ্রমণ করতে ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ এর মধ্যে অবশ্যই টিকেট ক্রয় করতে হবে।

এই অফার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও টিকেট ক্রয়ে ভিজিট করুন বিমান ওয়েবসাইট www.biman-airlines.com

pin

তন্ত্রমন্ত্রের খুঁজে কামরুপ-কামাক্ষা ভ্রমণ সাথে শিলং – চেরাপুঞ্জি – মাউলিননং ভিলেজ। ট্যুর হউক ৩-৪ জনের

সময় :: ৩ দিন ২ রাত
বাজেট :: ১০ হাজার রুপি (জনপ্রতি ১৫০ ডলার করে নিলেই চলবে) ৩-৪ জনের গ্রুপ।
রিজার্ভ গাড়ী :: প্রথম দিন : ডাউকি থেকে শিলং পুলিশ বাজার ১৫০০ রুপি। (ড্রাইভার রোশন – +919872088189(ডাউকি বর্ডার)
দ্বিতীয় দিন : শিলং গোয়াহাটি, আসাম (কামরুপ কামাক্ষা মন্দির) যাওয়া আসা ৩৫০০-৪০০০ রুপি
তৃতীয় দিন : শিলং থেকে গাড়ী রিজার্ভ করবেন ডাউকি বর্ডার পর্যন্ত। ভাড়া নিবে ৩৫০০-৪০০০ রুপি। রোড পরিকল্পনা হবে। শিলং চেরাপুঞ্জি মাউলিননং ভিলেজ ডাউকি বর্ডার। ড্রাইভার উত্তম দাদা +919863111973 (শিলং) 
(সাথে বলে নিবেন, যাওয়ার পথে শিলং ভিউ পয়েন্ট, সেভেন সিস্টার ফলস, মাউসুমি ক্যাভ, এলিভেন ফলস চেরাপুঞ্জি, লিভিং রোড ব্রীজ, মাউলিননং ভিলেজ হয়ে ডাউকি বর্ডার) 
ট্যুরিষ্ট পয়েন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
ট্যুরিষ্ট পয়েন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

ভ্রমণের কথা::
আসামের কামরুপ-কামাক্ষা নিয়ে কল্প কাহিনীর শেষ নেই। সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, কামরুপ-কামাক্ষা গেলে নাকি মানুষ আর ফিরে আসতে পারে না। বিশেষ করে পুরুষ মানুষ যদি যায়, তাহলে সেখানখার মহিলারা নাকি যাদু টোনা করে রেখে দেয়। আমাদের দেশে যত প্রকার আজবগুজি যাদু টোনা আছে সবই নাকি কামরুপ-কামাক্ষা থেকে আমদানী হয়। আসলে সবই কল্প কাহিনী। বর্তমানে যার কোনো অস্থিত্বই নেই। তবে এটা সত্যি কামাক্ষা মন্দিরটি সত্যিই অসাধারণ।

ডাউকি ব্রীজ (যেটা আমাদের জাফলং থেকে দেখা যায়) অতিক্রম করার পর পাড়ারের কুল ঘেষে যখন আপনার গাড়ী ছুটবে শিলংয়ের পথে তখন চোখের পলক ফেলার ইচ্ছে হবে না। মন চাইবে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকি প্রকৃতির এই অপরুপ রুপের দিকে। লাল পাহাড়, সাদা পাহাড়, কালো পাহাড়, সবুজ পাহাড়, পাথরের পাহাড় কি নেই ডাউকি থেকে শিলং যাবার পথে। বিশেষ করে পাইনোরসালা (Pynursla) ভিউ পয়েন্ট অসাধারণ একটা জায়গা।

কিভাবে যাবেন :- ঢাকা থেকে সিলেট বাস, ট্রেন বিমান যেকোনো ভাবে যেতে পারবেন (তবে খরচ কমাতে চাইলে বাস কিংবা ট্রেন এ যাওয়াই ভালো)। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৪৭০ টাকা (ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ), নামবেন হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বরে অথবা কদমতলী বাস টার্মিনালে। ট্রেন ভাড়া ৩৪০ টাকা শোভন চেয়ার (উপবন এক্সপ্রেস রাত নটায় ছাড়ে কমলাপুর ষ্টেশন থেকে)। বাস টার্মিনাল কিংবা রেল ষ্ট্রেশন থেকে সরাসরি সিএনজি গাড়ী রিজার্ভ করে নেন তামাবিল বর্ডার পর্যন্ত। ভাড়া নিবেন ৬০০-৭০০ টাকা (দরদাম করে নিবেন)।

ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার ক্রসিং : তামাবিল বর্ডারে নামার পর হাতের ডান পাশে আছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অফিস। এখানে প্রথমে একটি ডিপার্টসার ফরম পুরণ করতে হবে তারপর ভেতরে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে পাসপোর্ট দিয়ে বাহিরে একটু অপেক্ষা করুণ, কাজ শেষ হলে পাসপোর্ট নেবার জন্য কল করবে। পাসপোর্ট হাতে নিয়ে যাবেন কাস্টমস রুমে, এখানে ট্রাভেল ট্যাক্সের কাগজ দিবেন, তারা এন্ট্রি করে রাখবে। কাজ শেষ হলে রুম থেকে বের হয়ে আপনে ডাউকি বর্ডার মুখি হলেন, ডাউকি বর্ডারে প্রবেশ করার আগে বাংলাদেশ সীমান্তে সেনাবাহিনীর একটি চেকিং রুম আছে, এখানে আপনার পাসপোর্ট এন্ট্রি করিয়ে ডাউকি বর্ডারে প্রবেশ করুন। চাইলে দুই দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে কয়েকটি সেলফি তুলে নিতে পারেন।ইন্ডিয়ান সীমান্তে পৌছার পর বিডিআর এর চেকিং রুম আছে, এখানে পাসপোর্ট দেখিয়ে হাটা শুরু করুন ইমিগ্রেশন রুমের দিকে। চেকপোষ্ট থেকে সামান্য একটু দুরে। ডাউকি ইমিগ্রেশন রুমে প্রবেশ করে একটি এ্যারাইভাল ফরম নিবেন, এটা ফিলাপ করে পাসপোর্টসহ ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে দিবেন।এখান থেকে এ্যারাইভাল সীল নিয়ে রুম থেকে বের হবার আগে দরজার বা পাশে চেকিং বেল্টের পাশে আরেকটি কাউন্টার আছে এখান থেকে আপনার পাসপোর্ট এন্ট্রি করিয়ে নিতে ভূলবে না। সব কাজ শেষ করে ইমিগ্রেশন রুম থেকে বের হয়ে মেইন রোডে আসলেই অসংখ্য ট্যাক্সি ড্রাইভার পাবেন। দরদাম করে শিলং পুলিশ বাজার পর্যন্ত রিজার্ভ করে নেন। ভাড়া পড়বে ১৫০০-২০০০ রুপি।আমি নিয়েছিলাম ১৫০০ রুপিতে।

কোথায় থাকবেন :: শিলং পুলিশ বাজারে অনেক হোটেল আছে। ট্যুরিষ্টদের জন্য পুলিশ বাজারেই থাকা ভালো। আমরা ছিলাম স্টে ইন গেষ্ট হাউজে (Stay in Guest House)ভাড়া ২৫০০ রুপি (৩ জন), এটার পাশেই আছে জারা রিসেডেন্সি, হ্যারিটেজ হোটেল। হ্যারিটেজ হোটেল এর বিপরীত পাশেই আছে মানি এক্সচেঞ্জ। এখান থেকে আপনার ডলার ভাংগিয়ে রুপি করে নিতে পারবেন।

দিনে দিনে গোয়াহাটি (আসাম) কামরুপ কামাক্ষা মন্দির ভ্রমণ :: দিনে দিনেই ঘুরে আসতে পারবেন, গোয়াহাটি, কামরুপ-কামাক্ষা মন্দির।যদি ৩-৪ জনের গ্রুপ হয়, তাহলে পুলিশ বাজার থেকে ট্যাক্সি রিজার্ভ করেই নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। ভাড়া নিবে ৩০০০-৩৫০০ রুপি। এছাড়াও মেঘালয় সরকারী বাস কোম্পানী আছে, শিলং থেকে গোয়াহাটি পর্যন্ত ভাড়া নিবে ১৩০ রুপি করে। সুমো জীপে কিংবা কারে গেলে ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০০ রুপি করে।শিলং থেকে গোয়াহাটি যাওয়া আসার সময় হাইওয়ের পাশেই উমিয়াম লেক (Umiam Lake). যাওয়ার সময়ই একটু সময় দেখে যেতে পারেন। কারণ গোয়াহাটি থেকে আসার সময় সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে, তাই লেকের ভিউটা ভালো ভাবে না ও দেখা যেতে পারে। শিলং থেকে গোয়াহাটি যাবার সময় উমিয়াম লেক এর পরই শুরু হয় শিলং গোয়াহাটি হাইওয়ে। প্রাকৃতিক শোভায় ভরপুর এই হাইওয়েতে মনের অজান্তেই গুণগুনিয়ে গাইতে ইচ্ছে হয়, এই পথ যদি শেষ না হয়…..।
আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দময় হউক।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ২:০৭

pin

এশিয়ার ভূস্বর্গ কাশ্মীর ট্যুর

এশিয়ার ভূস্বর্গ বলা হয় কাশ্মীরকে। আর কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের মুকুট বলা হয় ডাল লেককে। কাশ্মীর শহরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত টুরিস্ট স্পট ডাল লেক। স্বর্গীয় মুকুটে পুরো দিন আর রাত থাকতে কে না চায়? তাই নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারেন ডাল লেকের এক সকাল-বিকেল-সন্ধ্যারাতে। 

ডাল লেকের অবস্থান

ডাল লেকের অবস্থান শ্রীনগর শহরের ঠিক মাঝখানে। লম্বায় ডাল লেক প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার আর প্রশস্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে পুরো ডাল লেক দেখতে আপনাকে ঘুরতে হবে ১৫-২০ কিলোমিটার। গভীরতা প্রায় পাঁচ ফুট থেকে কোথাও কোথাও ২০ ফুট পর্যন্ত।

ডাল লেকের চারপাশজুড়ে আছে নানা রকম দর্শনীয় মুঘল গার্ডেন, এদের মধ্যে অন্যতম শালিমার বাগ, নিশাত বাগ। আর ডাল লেকের শেষ প্রান্ত ঘেঁষে রয়েছে বিখ্যাত হজরতবাল মসজিদ। যেখানে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দাড়ি মোবারক সংরক্ষিত আছে। তবে বিশেষ বিশেষ দিনে এটা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

যেভাবে আসবেন

শ্রীনগর এয়ারপোর্ট থেকে ডাল লেকের দূরত্ব ২৩ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। সময় লাগে ৩০-৩৫ মিনিট। আর যাঁরা জম্মু থেকে ডাল লেকে আসবেন, তাঁদের পাড়ি দিতে হবে ২৭০ কিলোমিটার। সময় লাগবে ছয় ঘণ্টা বা তার চেয়ে কিছু বেশি।

ভাসমান শহর এবং রঙিন সিকারা

ডাল লেকের প্রধান আকর্ষণ হলো এর পানিতে ভেসে থাকা হাউস বোট। ডাল লেকের আসল রূপ উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে থাকতে হবে হাউস বোটে আর ভাসতে হবে রঙিন সিকারায়। পুরো ডাল লেকটাই যেন এক ভাসমান শহর। কারণ  শ্রীনগরের সব কর্মকাণ্ড বা ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত এই ডাল লেককে কেন্দ্র করে। সুতরাং ওদের সব আয়ের উৎস্য এই একমাত্র ডাল লেকে বেড়াতে আসা টুরিস্টরা।

হাউস বোট ও সিকারা

হাউস বোটে বসে বা সিকারায় ভেসে ভেসেই আপনি কিনতে পারবেন আপনার পছন্দের প্রায় সব রকম পণ্য । দামটাও বেশ নাগালের মধ্যে। শাল-পশমিনা-সালোয়ার কামিজ, কারুকাজ করা বেড কভার, গয়না, কাঠের নানা আসবাব ফুল-খাদ্য-মাছ-মাংসসহ পাবেন ভাসমান বাজারে। দোকান, রেস্টুরেন্ট এমনকি ভাসমান ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে মার্কেট পর্যন্ত সব আছে এই ভাসমান শহরে।

তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে মনোরম হলো হাউস বোটে থাকা আর সিকারায় ভেসে বেড়ানো। প্রথমেই হয়তো হাউস বোট বা ডাল লেক আপনাকে মুগ্ধতায় পাগল করে দিতে পারবে না। কিন্তু ধীরে, ধীরে ফ্রেশ হয়ে, নাওয়া-খাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নিয়ে যখন হাউস বোটের সামনের খোলা কাঠের বারান্দা বা পাটাতনে চেয়ার পেতে বসবেন, তখন থেকে মুগ্ধতা ঘিরে ধরতে শুরু করবে আপনাকে।

নানা রঙের সিকারার শান্ত জলে বয়ে চলা, লাল-নীল-সবুজ-হলুদ-বেগুনি আর গোলাপি, বর্ণিল ফুলে, ফুলে ভরা সিকারাগুলো ভেসে চলেছে এক হাউস বোট থেকে অন্য হাউস বোটে। এক হাউস বোটের সিঁড়ির কাছে, দূরে পাহাড়ের সূর্যের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা সঙ্গে নানা রঙের বদল ক্ষণে ক্ষণে, কখনো সবুজ, কখনো হলুদ আবার কখনো গোলাপির আভা, লেকের স্বচ্ছ পানিতে পাহাড়ের ছায়া, সিকারার রংবেরঙের ছাদগুলোর পানির নিচের নাচন, আর নানা রকমের ফলের বিকিকিনি চলছে।

আপনিও ভেসে বেড়াতে পারেন আপনার জন্য হাউস বোটের সঙ্গে বেঁধে রাখা সিকারায়।  

সকাল গড়িয়ে দুপুরের দিকে সূর্য হেলে পড়তেই আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে ঝলমলে ডাল লেক।

বিকেলে অন্য ডাল লেক। দুপুরে যেটা শুধু লালের ছোঁয়া ছিল, এখন সেটা শত রঙের খেলায় মেতে উঠবে, এক-এক জায়গায় সূর্যের এক এক রকম রং লেগে থাকবে। সবুজ পাহাড়ে হয়ে যাবে হলুদ রঙ, নীল পানিতে হবে মেরুন, দূরের সাদা পাহাড়ে হয়ে যাবে গোলাপি আর লাল। কাছে-পিঠের গাছে গাছে আলোর ঝলকানি থাকবে। অদ্ভুত রঙের খেলায় মেতে উঠবে পুরো ডাল লেক।

সন্ধ্যারাতে ডাল লেক যেন সেজে ওঠে তার আপন রূপে। ডাল লেককে পুরোপুরি উপভোগের সময়ই হলো সন্ধ্যা থেকে রাত। হাজারো আলোর ঝলমলে বাতি জ্বলে উঠবে শত শত হাউস বোটের সামনের কাঠের বেলকনিতে। এক অভূতপূর্ব সৌন্দর্যের রূপ দেখতে পাবেন সন্ধ্যা আর রাতের ডাল লেকে। আলোয় আলোয় আলোকিত পুরো ডাল লেকের সব হাউস বোট, বর্ণিল ঝলমলে ফোয়ারা, স্বচ্ছ জলে হাজার রঙের ঢেউয়ের খেলা, আর ঝলমলে চারিদিক আপনাকে মুগ্ধ করবে।

সকালে এক সোনা মাখা হলুদাভ রূপ, দুপুরে সবুজে, ছায়ায়, পানিতে সূর্যের শত রঙের খেলা আর বিকেলে বা শেষের সন্ধ্যা থেকে রাতে এক অবর্ণনীয় সাঁজে থাকবে ডাল লেক।

থাকা-খাওয়ার খরচ

আপনি একটু কম খরচে আর কিছুটা নিজের মতো করে থাকতে চান তবে, একটি সিকারা ঠিক করে নিতে পারেন এক ঘণ্টার জন্য। যে কোনো হাউস বোটে পৌঁছে যাবেন কয়েক মিনিটের মধ্যে। যথেষ্ট ভালো আর আরামদায়ক, উন্নত মানের ডাবল বেডের হাউস বোট পাওয়া যায় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

লেক লাগোয়া হোটেলও পেয়ে যাবেন একই রকম দামে। সুতরাং দেখে-শুনে নিজেদের পছন্দমতো হাউস বোট বা হোটেলে উঠে পড়ুন।

খাবার-দাবার

শ্রীনগরের ডাল লেকে খাবার খরচটা ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে তুলনামূলক কিছুটা বেশি। খাবার খরচ জনপ্রতি ৩০০ টাকা প্রতিবেলা। চা বা কফি পাবেন ২০-২৫ টাকায়। ডিম ৬০ টাকা, সিঙ্গেল ভাত ৬০ টাকা, এমনি খাবারের সঙ্গে সালাদের দামও রাখবে আলাদা।

এর কারণ কাশ্মীরের নিজস্ব উৎপাদিত তেমন কিছু নেই, সব কিছুই দূরের কোনো প্রদেশ থেকে আমদানি করতে গিয়ে খরচটা বেশি পড়ে দামটা বেশি হয়ে যায়। এখানে অবশ্য ওদের তেমন কিছু করার নেই।

ঢাকা থেকে ডাল লেক

ঢাকা থেকে কলকাতা। আর কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর বেশ কয়েকভাবেই যাওয়া যায়। ট্রেনে কলকাতা, কলকাতা থেকে জম্মু ট্রেনে। এরপর জম্মু থেকে শ্রীনগর জিপ বা প্লেনে অথবা এই তিন বাহনের যে কোনোটিতে যে কোনোভাবে আপানি যেতে পারেন।

খরচ

প্লেনে যেতে চাইলে আপনাকে অন্তত দুই মাস আগে টিকেট কেটে রাখলে কলকাতা থেকে শ্রীনগর যাওয়া-আসার রিটার্ন টিকেট পাবেন ১২ হাজার টাকার মধ্যে। যত দেরিতে কাটবেন, টিকেটের মূল্য তত বাড়বে। এটা খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে। এমনকি কলকাতা থেকে ট্রেন আর জিপে করে গেলেও যাওয়া-আসা এসি সিটের ভাড়া পড়বে ১০ হাজার টাকা। কলকাতা থেকে সরাসরি ট্রেনে যাওয়া যায় জম্মু হিমগিরি এক্সপ্রেসে। এসি থ্রি টায়ারের ভাড়া প্রায় ২৫০০ টাকা। এরপর গাড়ি ভাড়া ২৫০০-৬০০০ পর্যন্ত। কত সিটের গাড়ি নেবেন তার ওপর নির্ভর করবে ভাড়া। কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজধানী এক্সপ্রেস আর দিল্লি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে করেও জম্মু পর্যন্ত যেতে পারেন আপনি। ভাড়া দিল্লি পর্যন্ত ২৮৫০ টাকা খাওয়াসহ। আর জম্মু রাজধানীর ভাড়া ১৫০০ টাকা।